শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৪

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ভুগছে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহিত

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভুগছে বিশ্ব। সেই প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শক্তির দেশ বাংলাদেশে। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যে সব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। ঝড়-বৃষ্টি, অসময়ের বন্যা, টর্নেডো, সাইক্লোনের একের পর এক আঘাতে জর্জরিত এই দেশ।

সম্প্রতি তীব্র তাপদাহে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অতিষ্ট হয়ে উঠেছিল প্রাণীকূলও, ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির। বিশেষ করে গত ২ এপ্রিল থেকে দেশে শুরু হওয়া দাবদাহের দাপট চলেছে আগস্ট পর্যন্ত। এরমধ্যে ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে কমেনি তাপ প্রবাহ।

যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থা ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়া) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আগেই অস্ট্রেলিয়া–এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই তাপমাত্রা বেশি থাকার পূর্বাভাস দেয়।

নোয়াসহ আবহাওয়াবিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তিন বছর ধরে বৈশ্বিক আবহাওয়ায় ‘লা নিনা’ পরিস্থিতি ছিল। লা নিনা সক্রিয় থাকলে প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ভারত মহাসাগর হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বৃষ্টিপাত বেশি হয়। কিন্তু চলতি বছর থেকে ওই অঞ্চলগুলোতে আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে এল নিনো পরিস্থিতি (উষ্ণ সামুদ্রিক স্রোত) তৈরি হয়। এতে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, বৃষ্টিপাতও কমে যায়। আবহাওয়াও অস্বাভাবিক চরম আচরণ করে। এর কারণেই বিশ্বে অতিরিক্ত উষ্ণতা তৈরি হয় বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

আবহাওয়ার এই উল্টো আচরণের প্রভাবে হুটহাট বন্যা ও ভারীবৃষ্টি হয়। আর ভারী বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ডুবে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। এরফলে বিপাকে পড়ে নগরবাসী।

রাজধানী ঢাকার অলিগলিতেও জলাবদ্ধতা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই সড়ক ডুবে যেন নদীতে রূপান্তরিত হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি চলে রাতভর। আর এই বৃষ্টির পানি সরতে না পেরেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, যা শুক্রবার দিনভর ভুগিয়েছে রাজধানীবাসীকে।

বিশেষ করে রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশাল, বকশিবাজার, হোসনীদালান, নাজিমউদ্দীনরোডসহ বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে ছিল। একইসঙ্গে পানিতে ডুবে ছিল নিউমার্কেটও। এরফলে দোকানীদের বেচাকেনা বন্ধ ছিল।

এদিকে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর আগে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকলেও এখন উত্তরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এরই মধ্যে দেশের তিন বিভাগে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে জলাবদ্ধ সড়কে গাড়ির পাশাপাশি নৌকাও চলাচল করতে দেখা গেছে। ময়লা পানি থেকে বাঁচতে অনেকে টাকা খরচ করে নৌকায় রাস্তা পার হয়েছেন।

শুক্রবার সকালে ঢাকার কাজীপাড়া থেকে ১০ নম্বর গোল চত্বরের আগ পর্যন্ত পুরো সড়কই পানির নিচে তলিয়ে ছিল। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরপানি। এছাড়াও রাজধানীর শান্তিনগর, আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগের কোম্পানীঘাট, পুরান ঢাকার জুরাইন, নাজিমউদ্দিন রোড, আলাউদ্দিন রোড, পুরানা পল্টন, মতিঝিল, আরামবাগ, খিলগাঁও এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এদিন। এসব এলাকার সড়কে চলাচলে রীতিমতো নাকাল হয়েছেন নগরবাসী।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, একটু ভারী বৃষ্টি হলেই মহানগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়। তবে কিছুক্ষণ পর আবার চলেও যায়। এ কারণে সাময়িক জনদুর্ভোগ হয়। ঢাকা শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশা করি ধীরে ধীরে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী কামরুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল ও ড্রেনেজ সংস্কারে কাজ করছে ঢাকা ওয়াসা। সে কারণে গতবারের চেয়ে এবার রাজধানীতে জলজট তুলনামূলক কম হচ্ছে। নতুন বেশ কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, সেসব প্রকল্পের কাজও দ্রুত শুরু করা হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শরীফ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ভারী বৃষ্টি হলে ঢাকা উত্তর সিটির বিভিন্ন সড়কে পানি জমছে। পরে আবার পানি সরেও যাচ্ছে। মিরপুর এলাকায় মেট্রোরেলের উন্নয়ন কাজের কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই এলাকার বৃষ্টির পানি সরে যেতে বেশি সময় লাগছে। অন্যান্য এলাকার পানি অন্যান্য যে কোনো সময়ের চেয়ে তাড়াতাড়ি সরে যায়।

সম্পাদক : জোবায়ের আহমেদ