পাবনার চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত অবস্থায় সুলতানা জাহান ডলি (৪৫) নামের এক সিনিয়র স্টাফ নার্সকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে জখম করার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্বামী আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ৮টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত অবস্থায় সুলতানা জাহান ডলিকে উদ্ধার করে ওই হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহত নার্স পার্শ্ববর্তী উপজেলা আটঘরিয়ার কুষ্টিয়া পাড়ার শাহজাহান আলীর মেয়ে সুলতানা জাহান ডলি। তিনি বর্তমানে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযুক্ত স্বামী চাটমোহরের মল্লিক বায়েন এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে আমিরুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী ডলি ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম একটি বাহিনীতে কর্মরত এবং বর্তমানে রাঙামাটিতে পোস্টিং রয়েছেন। প্রায় তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। এটি উভয়েরই দ্বিতীয় সংসার ছিল। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল এবং এর আগে দুইবার তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে পুনরায় তারা সংসার শুরু করলেও বিবাদ মেটেনি।
গত দুই মাস আগে ডলি চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করার পর আবারও বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। এর জেরে চলতি মাসের ৩ জানুয়ারি ডলি তার স্বামী আমিরুল ইসলামকে চূড়ান্তভাবে ডিভোর্স (বিচ্ছেদ) দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমিরুল তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, ডিভোর্সের পর ডলির চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে আমিরুল তার কিছু ব্যক্তিগত ছবি হাসপাতালের সহকর্মীদের মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় ডলি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে আমিরুল আরও হিংস্র হয়ে ওঠেন।
শুক্রবার সকালে ডলি তার নাইট ডিউটি শেষে বাসায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় হঠাৎ জরুরি বিভাগে প্রবেশ করেন আমিরুল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি হাতে থাকা ধারাল অস্ত্র দিয়ে ডলির গলা, পেট ও দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এ সময় হাসপাতালের ইনডোর ও জরুরি বিভাগে অবস্থানরত নার্স ও রোগীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক বুলবুল বলেন, আহত নার্সকে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার গলায় গভীর আঘাত লেগেছে এবং অনেকগুলো সেলাই পড়েছে। হাসপাতালের ভেতরে এমন জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত।
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারওয়ার হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। স্বামী-স্ত্রীর দীর্ঘদিনের কলহ এবং সাম্প্রতিক ডিভোর্সের জেরে এই হামলা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। অভিযোগ পেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষ প্রতিনিধি | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম


















