বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬

শীতকালীন ভ্রমণে দেশের সেরা ৫ গন্তব্য

শীতকালীন ভ্রমণে দেশের সেরা ৫ গন্তব্য

শীতের সকাল মানেই এক চিলতে রোদ আর হিমেল হাওয়ার পরশ। বাংলাদেশের প্রকৃতিতে শীত আসে জাদুর মতো স্নিগ্ধতা নিয়ে। গ্রীষ্মের দাবদাহ আর বর্ষার আর্দ্রতা কাটিয়ে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়টা হয়ে ওঠে ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আদর্শ।

স্নিগ্ধ সকাল, শান্ত সন্ধ্যা আর মনোরম আবহাওয়ায় দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে মুখিয়ে থাকেন ভ্রমণপিপাসুরা।

ব্যস্ত নাগরিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে শীতকালীন অবসরে ঘুরে আসার মতো পাঁচটি সেরা জায়গার বিস্তারিত তুলে ধরা হলো এই প্রতিবেদনে।

বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক বালুকাময় সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার বরাবরই পর্যটকদের প্রথম পছন্দ। প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকতে শীতের সময় রোদের তীব্রতা কম থাকায় দীর্ঘক্ষণ হাঁটা বা সময় কাটানো সহজ হয়। সমুদ্রের বিশাল নীল জলরাশি আর ঢেউয়ের গর্জন পর্যটকদের মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দেয়।


কক্সবাজার ভ্রমণের পূর্ণতা পেতে লাবনী পয়েন্ট, হিমছড়ি ন্যাশনাল পার্ক এবং ইনানী সৈকতের মতো দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখা যেতে পারে। এছাড়া এখানকার সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নেওয়াও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।


ভ্রমণে যারা নির্জনতা পছন্দ করেন, তাদের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ এক স্বপ্নময় গন্তব্য। স্বচ্ছ নীল জল আর নারিকেল বাগানঘেরা এই ছোট্ট প্রবাল দ্বীপটি শীতকালে সবচেয়ে শান্ত থাকে। সমুদ্রপথে জাহাজ ভ্রমণের রোমাঞ্চ আর দ্বীপে বসে সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি উপহার দেয়। নাগরিক কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে সমুদ্রের একদম কাছাকাছি রাত কাটানোর জন্য সেন্টমার্টিন অনন্য।


অপরদিকে সবুজ পাহাড় আর চা বাগানের সতেজতার জন্য সিলেট ও শ্রীমঙ্গল অঞ্চল সারা বছরই পর্যটকদের টানলেও শীতকালে এর রূপ হয়ে ওঠে আরও মোহনীয়। ভোরের কুয়াশায় ঢাকা চা বাগানের বুক চিরে হেঁটে চলা কিংবা লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কের বুনো নিস্তব্ধতা উপভোগ করা এক অনন্য অভিজ্ঞতা।


এ ছাড়া জাফলং বা সাদা পাথর এলাকায় পাহাড় আর নদীর মিতালী পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দেয়।


অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষের জন্য শীতকালীন সেরা গন্তব্য হলো সুন্দরবন। পৃথিবীর বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ বন শীতকালে ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক, কারণ এ সময় বনের নদী ও খালে নৌ-ভ্রমণ বেশ আরামদায়ক হয়। ছোট নৌকায় বনের গভীরে ঘুরে বেড়ানো এবং বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ এ সময় অনেক বেশি থাকে।


বাঘ দেখার আশা তো থাকেই, সেই সাথে হরিণ, কুমির এবং অসংখ্য প্রজাতির পাখি দেখার আনন্দ সুন্দরবন ভ্রমণকে সার্থক করে তোলে।


ওদিকে, পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরি দেখতে হলে সাজেক ভ্যালি এবং রাঙামাটির বিকল্প নেই। শীতের সকালে সাজেকের পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে মেঘের সমুদ্র দেখার দৃশ্য যেকোনো মানুষকে মুগ্ধ করবে।


রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে নৌকাভ্রমণ আর পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জীবনযাত্রা দেখা এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা। শীতল বাতাস আর সতেজ পাহাড়ি পরিবেশে হাইকিং বা হ্রদের জলে ঘুরে বেড়ানোর জন্য শীতকালই সেরা সময়।


বাংলাদেশের শীতকাল তার বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য দিয়ে প্রত্যেক পর্যটককে স্বাগত জানায়। সমুদ্রের গভীরতা, বনের রোমাঞ্চ কিংবা পাহাড়ের উচ্চতা—সব মিলিয়ে প্রিয়জনদের সাথে স্মৃতি তৈরি করার এখনই মোক্ষম সময়। তবে পাহাড় বা উপজাতি এলাকায় ভ্রমণের সময় স্থানীয় সংস্কৃতি ও শিষ্টাচারের প্রতি সচেতন থাকা জরুরি।


সম্পাদক : অপূর্ব আহমেদ