পি টি ডি একাডেমি। পাইকগাছা তালা ডুমুরিয়া এই তিন উপজেলার মোহনা। পাইকগাছা উপজেলার কাশিমনগর গ্রামে পিটিডি একাডেমি অবস্থিত। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের সেই অমর কপোতাক্ষ নদ প্রতিষ্ঠানটির পাশ দিয়ে প্রবাহিত। স্নিগ্ধ সুন্দর মনোরম পরিবেশ।
প্রতিষ্ঠানটি সূত্রে জানা যায়। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে কপিলমুনি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠাতা মরহুম এম এ মান্নান একুশে পদকপ্রাপ্ত, প্রতিষ্ঠানটি করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সেই লক্ষ্যে এম এ মান্নান ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠানের নামে নিজ অর্থে প্রতিষ্ঠানের নামে কবলা মূলে। জমি খরিদ করেন। কিন্তু উনার জীবদ্দশায় অনেক প্রচেষ্টা করেও তার দীর্ঘ অসুস্থতা এবং মৃত্যুবরণ করার কারনে প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। ২০০৮ সালে এলাকার কিছু শিক্ষা অনুরাগী মানুষ। এবং মরহুম প্রতিষ্ঠাতা সন্তানরা। নতুন করে প্রতিষ্ঠান করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। একই ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠিত হয় পিটিডি সুন্দরবন টেকনিক্যাল এন্ড ভোকেশনাল স্কুল ও কলেজ এবং পিটিডি একাডেমি। ইতিমধ্যে ভোকেশনাল শাখাটি এমপিও ভুক্ত হয়েছে।
কিন্তু ২০১০ সাল থেকে অদ্যবধি পিটিডি একাডেমি শিক্ষার আলো বিস্তারে নিরলসভাবে কাজ করে গেলেও। এখনো পর্যন্ত। সরকারিভাবে কোন সুযোগ সুবিধা প্রাপ্ত হয় নাই। পি,টি,ডি একাডেমি সূত্রে জানা যায়,বর্তমানে পিটিডি একাডেমিতে প্রায় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত আছেন। পাঁচ জন শিক্ষক একজন কর্মচারী শিক্ষা বিস্তারে কাজ করছেন।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মোঃ শিমুল বিল্লাল বলেন পিটিডি একাডেমিতে অবৈতনিকভাবে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পাঠদান করা হয়। তিনি বলেন আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা সরকারিভাবে উপবৃত্তিপ্রাপ্ত হয় না। প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ এবং সংস্কার খুবই জরুরী। পিটিডি সরকারি বিধি মোতাবেক পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে। কোনরকম বেতন গ্রহণ করেন না।
প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতার কনিষ্ঠ পুত্র খুলনা প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল বর্তমানে কানাডা সাচকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণা রত। তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক কর্মচারীদের সম্মানী প্রদান করে থাকেন।
এ বিষয়ে কানাডা অবস্থানরত আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল দৈনিক বাংলাবাজার কে বলেন ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রদান এবং অবকাঠামো সংস্কার করা খুবই দুরুহ। আমি মনে করি জনসংখ্যা অনুপাতে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা সকলের জন্য নিশ্চিতকরণের জন্য পিটিডি একাডেমিকে যদি বাংলাদেশ সরকারের গণশিক্ষা ও প্রাথমিক মন্ত্রণালয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। জাতীয়করণ করে নিতেন তাহলে প্রতিষ্ঠানটি জ্ঞানের আলো বিস্তারে আরো বেশি সুন্দর ভাবে পরিচালিত হতো। ছাত্র-ছাত্রীরা যদি সকল সরকারি সুবিধা প্রাপ্ত হতো পাশাপাশি এক যুগের বেশি সময় ধরে যে সকল শিক্ষক কর্মচারীরা অবৈতনিকভাবে পাঠদান করে যাচ্ছেন তাদের দুঃখের জীবনের পরিসমাপ্তি হতো।
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম























