শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬

উত্তরায় ৭ তলা ভবনে আগুন, নিহত বেড়ে ৬

উত্তরায় ৭ তলা ভবনে আগুন, নিহত বেড়ে ৬

ছুটির দিনের সকালে রাজধানীর উত্তরায় আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ছয় জন।

উত্তরার ১১ নং সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের একটি ৭ তলা ভবনের ২য় তলায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও ১৩ জনকে উদ্ধার করে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।


তিনি বলেন, সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। চার মিনিট পর, অর্থাৎ ৭টা ৫৪ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসে খবর পৌঁছায়। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয় এবং সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে সেখানে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।


দীর্ঘ চেষ্টা শেষে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে সকাল ১০টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।


নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজন পুরুষ ও অপরজন নারী। ওই তিনজন হলেন কাজী ফজলে রাব্বি (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) এবং তাদের ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান (২)।


সুবর্ণাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাব্বি ও রিশানের মরদেহ আছে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে।


চিকিৎসকের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ওই তিনজনের কেউ দগ্ধ হননি। ধোঁয়ার কারণে অক্সিজেনের অভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


রাব্বির বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার নানুয়া দিঘিরপাড়ে। তিনি এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী সুবর্ণা চাকরি করতেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে। তাদের আরেক ছেলে ফাইয়াজ উত্তরায় নানীর বাসায় থাকায় বিপদ থেকে বেঁচে গেছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।


নিহতদের মধ্যে রোদেলা আক্তার নামের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর মরদেহ নেওয়া হয়েছে লুবানা জেনারেল হাসপাতালে।


বাকি দুজন হলেন ৫২ বছর বয়সী মো. হারিছ এবং তার ১৭ বছর বয়সী ছেলে মো. রাহাব। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে।


ওই বাসায় কীভাবে আগুন লেগেছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

সম্পাদক : অপূর্ব আহমেদ