শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতিতে শ্রমিকরা, পণ্য ওঠা-নামা বন্ধ

চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতিতে শ্রমিকরা, পণ্য ওঠা-নামা বন্ধ

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক ও কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের কর্মবিরতির কারণে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে কনটেইনার ও কার্গো ওঠানো-নামানোর কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে।


শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা এ কর্মবিরতি শুরু হয়।  


বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে বন্দরের বিভিন্ন বিভাগে সরকারি কর্মচারী ও বেসরকারি শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেননি।



চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন জানান, এনসিটি ইজারার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। কর্মসূচিতে শ্রমিক ও কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।


তিনি জানান, এনসিটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল সংবাদ সম্মেলন করে আগেই এই কর্মসূচির ঘোষণা করে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আগামীকাল রবিবারও আট ঘণ্টার জন্য প্রশাসনিক ও পরিচালন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।


এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক ও কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছেন


এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সার্বক্ষণিক সচল ও কার্যকর রাখা অত্যাবশ্যক। দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বন্দরের ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখার স্বার্থে যেকোনো মূল্যে বন্দরকে সচল রাখতে হবে।


বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত ও হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এর ফলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সব ধরনের বেআইনি ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে, তাদের প্রতিহত করে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বন্দর ব্যবহারকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। 


বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করে কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠী বেআইনি ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদক : অপূর্ব আহমেদ