সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সাতক্ষীরায় কুলের বাম্পার ফলন

সাতক্ষীরায় কুলের বাম্পার ফলন

সাতক্ষীরার কুল সারাদেশে বিখ্যাত। চলতি মৌসুমে কুলের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমের পর বাণিজ্যিকভাবে কুলের চাহিদা বাড়ায় এ অঞ্চলের চাষিরা কুল উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।


বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত কুলের ব্যাপক চাহিদা ও সুনাম থাকায় কৃষকরা চলতি বছর বেশি লাভের আশা দেখছেন। অল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে কুলের আবাদ। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাকভর্তি কুল যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।


জেলার সাতটি উপজেলাতেই কুলের চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কুল চাষ হচ্ছে কলারোয়া, তালা ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলায়। চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় উৎপাদিত কুল থেকে ১৫০ থেকে ১৬০ কোটি টাকা বিক্রির আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



জেলার বিভিন্ন কুল বাগানে নারিকেল কুল, টক কুল, থাই আপেল কুল, বল সুন্দরী কুলসহ নানা জাতের কুল ঝুলছে। কুল সংগ্রহ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক ও শ্রমিকরা। বাগান থেকেই খুচরা বিক্রেতারা প্রতি কেজি কুল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে কিনে নিচ্ছেন। সংগ্রহ করা কুল বাছাই করে কার্টনে ভরে খুলনা, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।


তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা এলাকার কুল চাষি মো. আব্দুল গফফার ও আব্দুস সমাদ মোড়ল বলেন, প্রথমে তিন বিঘা জমিতে কুল চাষ শুরু করি। বর্তমানে তা বাড়িয়ে সাত বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের কুল চাষ করছি।



তারা আরো বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকার কুল উৎপাদন হয়। একই কথা জানান আরেক কুলচাষি আব্দুস ছালামও। প্রকার ভেদে কুল ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে জানান চাষিরা।


এদিকে, কুল বাগানে কাজ করে পাওয়া পারিশ্রমিকে ভালোভাবেই সংসার চলছে বলে জানান নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা।


সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরায় কুল চাষ একটি লাভজনক ফসল। কুল বাগানের পাশাপাশি শাক-সবজির চাষ করা যায়, এ কারণে জেলায় কুল চাষ দিনদিন বাড়ছে।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সাতক্ষীরায় ৮৩০ হেক্টর জমিতে কুল চাষ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪৬ হেক্টরে। এসব জমি থেকে উৎপাদিত কুল ১৫০ থেকে ১৬০ কোটি টাকায় বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্পাদক : অপূর্ব আহমেদ