টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের সাতটি দল আগেই নিশ্চিত হয়েছিল। বাকি ছিল একটি স্থান। ‘এ’ গ্রুপ থেকে সেই লড়াইয়ে ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান। তিন ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ভারত আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত করে। যুক্তরাষ্ট্র চার ম্যাচে দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে অপেক্ষায় ছিল। পাকিস্তানেরও ছিল তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট। শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ নামিবিয়া—জিতলেই সুপার এইট, হারলেই নেট রান রেটে এগিয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ তৈরি হতো।
তবে কোনো সমীকরণের অবকাশ রাখেনি পাকিস্তান। ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ তকমা ঝেড়ে ফেলে নামিবিয়াকে ১০২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সবার শেষে জায়গা করে নেয় সুপার এইটে। ওপেনার শাহিবজাদা ফারহানের দুর্দান্ত অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংসে ভর করে ৩ উইকেটে ১৯৯ রান তোলে পাকিস্তান। জবাবে নামিবিয়া ১৭.৩ ওভারে ৯৭ রানে অলআউট হয়ে যায়। ম্যাচসেরা হন ফারহান। সুপার এইটে পাকিস্তানের প্রথম ম্যাচ ২১ ফেব্রুয়ারি, ২ নম্বর গ্রুপের নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।
কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে লজ্জাজনক হারের পর সমালোচনায় বিদ্ধ পাকিস্তান টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নেয়। উদ্বোধনী জুটি ৪০ রান তুললেও এরপর ইনিংস গড়ে ওঠে ফারহান, অধিনায়ক সালমান আগা ও শাদাব খানের ব্যাটে। দ্বিতীয় উইকেটে ফারহান-সালমান জুটি ৭ ওভারে যোগ করেন ৬৭ রান। সালমান ২৩ বলে ২ ছক্কা ও ৩ চারে ৩৮ রান করে ফিরলে খাজা নাফি দ্রুত ৫ রান করে আউট হন।
এরপর চতুর্থ উইকেটে ফারহান ও শাদাব অবিচ্ছিন্ন থেকে ৭.৪ ওভারে ৮১ রান যোগ করে দলকে ১৯৯ রানে পৌঁছে দেন। ফারহান শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে এক রান নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ৫৭ বলে ১১টি চার ও ৪ ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসটি তার ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে এটি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি; ২০১৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমটি করেছিলেন আহমেদ শেহজাদ। এবারের আসরে এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি— এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার পাথুম নিশাঙ্কা (অপরাজিত ১০০) এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কানাডার যুবরাজ শর্মা (১১০) সেঞ্চুরি করেছিলেন। ফারহানের সঙ্গী শাদাব ২২ বলে ৩ ছক্কা ও ১ চারে ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
২০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নামিবিয়া শুরুটা ভালোই করেছিল। লুরেন স্টিনক্যাম্প ও জান ফ্রাইলিঙ্কের উদ্বোধনী জুটিতে ৪.১ ওভারে আসে ৩২ রান। কিন্তু এই জুটি ভাঙতেই ধস নামে। শেষ ছয় উইকেট পড়ে মাত্র ১৮ রানে। ওপেনার লুরেন ২৩ ও আলেকজান্ডার বুশিং ২০ রান ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি। পাকিস্তানের হয়ে ওসমান তারিক ১৬ রানে ৪টি এবং শাদাব খান ১৯ রানে ৩টি উইকেট নেন।
গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচ হেরে শূন্য হাতে দেশে ফিরছে নামিবিয়া। আর বড় জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত পাকিস্তান এখন সুপার এইটের চ্যালেঞ্জে চোখ রাখছে।
ডেস্ক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম























