রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

লামিয়া-নিয়াজ-সেলিমকে রাষ্ট্রদূত করছে না সরকার

লামিয়া-নিয়াজ-সেলিমকে রাষ্ট্রদূত করছে না সরকার

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শুরু হওয়া লামিয়া মোর্শেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান এবং সাবেক সচিব সেলিম উদ্দিনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি স্থগিত করেছে বর্তমান সরকার। 

চলতি মাসের প্রথম ভাগে ৫টি দেশ থেকে রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আয়োজিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।


পররাষ্ট্র ক্যাডারের পেশাদার ও অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের তুলনায় রাজনৈতিক বিবেচনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাষ্ট্রদূত নিয়োগে আগ্রহী ছিল সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। সেই তালিকায় পছন্দের অঞ্চল ইউরোপ হিসেবে লামিয়া মোর্শেদের আগ্রহ ছিল নেদারল্যান্ডসের প্রতি। তাকে রাষ্ট্রদূত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ডাচ সরকারের কাছে ‘এগ্রিমো’ তথা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছিল। 



গত বছরের নভেম্বরে বিষয়টি গণমাধ্যমে এলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে ইউনূস প্রশাসন বিদায়ের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও নেদারল্যান্ডস সরকারের পক্ষ থেকে সেই এগ্রিমোর কোনো ইতিবাচক জবাব আসেনি।


লামিয়া মোর্শেদের পাশাপাশি ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে রাজনৈতিক বিবেচনায় ঢাবির সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খানের নাম প্রস্তাব করেছিল বিগত সরকার। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তিনি সেখানে নিয়োগ পাননি। পরবর্তীতে ইরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার নামে এগ্রিমো চাওয়া হলে ইরান সরকার সবুজ সংকেত দিয়েছিল। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে রাষ্ট্রদূত হতে আগ্রহী ছিলেন না ড. নিয়াজ।



সূত্র জানায়, রাষ্ট্রদূত পদটি নিশ্চিত করতে ড. নিয়াজ বিগত সরকারের আমলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দফায় দফায় ধরনা দিয়েছিলেন। এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনজরে আসতে গত ৫ জানুয়ারি তার গুলশান কার্যালয়েও সাক্ষাৎ করেছিলেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। শোনা যাচ্ছে, বর্তমানে তিনি ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় ডেনমার্কে যাচ্ছেন। 


অন্যদিকে, সাবেক বাণিজ্য সচিব সেলিম উদ্দিনকে মিশরে পাঠানোর জন্য গত বছরের অক্টোবরে এগ্রিমো চাওয়া হলেও কায়রো থেকে কোনো জবাব আসেনি।


বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে থাইল্যান্ডে কর্মরত পেশাদার কূটনীতিক ফাইয়াজ মুর্শিদ কাজীকে নিয়োগ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ডাচ সরকারের ইতিবাচক সাড়াও মিলেছে। আগামী মে-জুনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনের পরে তিনি হেগে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। এই নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে খোদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


রাজনৈতিক বিবেচনায় এই তিনজনের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের বিষয়টি একপ্রকার নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সুনির্দিষ্ট কারো নাম উল্লেখ না করলেও এক লিখিত বক্তব্যে তিনি জানিয়েছেন, “আগের সরকারের সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া রাষ্ট্রদূত নিয়োগের মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করার কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে বর্তমান সরকারের নেই।”


সম্পাদক : আবদুল মাতিন