রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

৮ জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য তেল সরবরাহ বন্ধ

৮ জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য তেল সরবরাহ বন্ধ

তেল চুরির দায়ে তিন শ্রমিককে কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংক-লরি শ্রমিক ইউনিয়ন।

সংগঠনের সভাপতি আতাউর রহমান বলেন, রোববার সকাল ৮টা দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর সব কার্যক্রম বন্ধ রেখে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এ কারণে নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের কোনো পাম্পে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না।

তিনি দাবি করেন, এ কর্মসূচিতে একাত্মতা ঘোষণা করেছে রংপুর বিভাগের আট জেলার পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্টরা।


ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, জ্বালানি তেলবাহী লরি থামিয়ে পেট্রোল চুরি করার সময়ে চালক-হেলপারসহ তিনজনকে আটক করে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার রাতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর নিয়াজ ভুঁইয়া এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- দিনাজপুরের পার্বতীপুরের হরিরামপুর এলাকার একরামুল ইসলাম (৩০), একই উপজেলার মন্মথপুর কৈবর্তপাড়া এলাকার শ্রী কৃষ্ণ চন্দ্র দাস (৩৫) ও নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের দুহুলিপাড়া এলাকার মো রিফাত ইসলাম (১৮)।


তবে ট্যাংক-লরি শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা দাবি করেন, রাতে পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর যমুনা কোম্পানি থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে তিন শ্রমিক নীলফামারীর দুটি পাম্পে যাচ্ছিলেন। পথে নীলফামারী শহরের মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের কাছে তেলবাহী লরির যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। শ্রমিকরা গাড়ির কেবিন খুলে কাজ করছিলেন।


এ সময় নীলফামারী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী হাকিম ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) নিয়াজ ভুঁইয়া তেল চুরির অভিযোগে তিনজনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন।


রংপুর বিভাগীয় ট্যাংক-লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান বলেন, “লরিটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তারা মেরামত করছিলেন। কোনো চুরি বা অনিয়ম হয়নি। আমাদের নিরপরাধ শ্রমিকদের বিনা অপরাধে সাজা দেওয়া হয়েছে।


“এই ‍‍‘অন্যায়’ সাজার প্রতিবাদে শ্রমিকরা তাৎক্ষণিক কর্মবিরতির ডাক দেন। আটক শ্রমিকদের মুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বদলি ও সুষ্ঠু তদন্ত না হলে কর্মবিরতি চলবে। দাবি মানা না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”


এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, বিধি অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।


পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো ইনচার্জ আহসান হাবিব বলেন, প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহে ট্যাংক-লরি লোড করে বিভিন্ন পাম্পে পাঠানো হত। রোববার সকাল থেকে ডিপোতে জ্বালানি তেল নিতে কোনো ট্যাংকলরি আসেনি।


“পরে জানতে পারি, তিন শ্রমিককে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের প্রতিবাদে সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংক-লরি শ্রমিক ইউনিয়ন।”


তিনি বলেন, বর্তমানে ডিপোতে ৩২ লাখ লিটার ডিজেল, ৬৫ হাজার লিটার পেট্রোল এবং ৮৪ হাজার লিটার অকটেন মজুত রয়েছে। কর্মবিরতি তুলে নেওয়া হলে পুনরায় জ্বালানি দেওয়া শুরু হবে।


এদিকে ট্যাংক-লরি শ্রমিকদের কর্মসূচিতে একাত্মতা ঘোষণা করার কথা জানিয়েছে রংপুর বিভাগের আট জেলার পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্টরা।


নীলফামারীর মেসার্স হক ফিলিং স্টেশনের মালিক শামসুল হক বলেন, “শ্রমিকদের ওপর অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দ্রুত এই রায় প্রত্যাহার না করা হলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে না।”


তিনি বলেন, তার পাম্পে পাঁচ হাজার লিটার পেট্রোল এবং ৬ হাজার লিটার ডিজেল ছিল। এগুলো বেলা ১১টার দিকে শেষ হয়ে গেছে।


সদর উপজেলার রাজা ফিলিং স্টেশনের মালিক রাজা আহমেদ বলেন, “সংকটের এই সময়ে অনেক সময় পাম্পে জ্বালানি তেল আসতে সময় লাগে। তেল আসার পর সঙ্গে সঙ্গে বিতরণ না করে একদিন পরে করি। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়া অনেক পাম্পে ম্যাজিস্ট্রেটরা গিয়ে জরিমানা করছেন। এতে পাম্প মালিকদের ক্ষতি হচ্ছে।”


নীলসাগর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জিকরুল হক বলেন, এরই মধ্যে জেলার পাম্পগুলোতে জ্বালানি মজুত শেষ হয়েছে। সকালে ট্যাংকলরি না আসায় অনেক পাম্পগুলোতে সকাল থেকে জ্বালানি তেল বিতরণ বন্ধ রেখেছে। প্রশাসনকে দ্রুত এটির সমাধান করতে হবে।



সম্পাদক : আবদুল মাতিন