শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাবে মন্ত্রিপরিষদ সম্মতি দেয়নি।
রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠতম দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদ সৃষ্টির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম জানতে চান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে যেই বিতর্ক সহকারী শিক্ষক সংগীত পদটি সৃষ্টি করা হয়েছে; তার বর্তমান অবস্থা কী?
জবাবে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন লিখিত উত্তরে জাতীয় সংসদকে জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ের শিক্ষক পদটি সৃজনের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অসম্মতি দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ প্রশ্নে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দল ভিন্ন ভিন্ন দাবি ও অবস্থান জানিয়ে আসছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেয়। পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে সঙ্গীত শিক্ষা চালুর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির দাবি, ধর্মপ্রাণ মুসলিম অভিভাবকদের মতামত উপেক্ষা করে সংগীতশিক্ষা চালু করা হলে তা মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করবে।
প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫ এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। এতে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছিল।
ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলনের মুখে গত নভেম্বরে বিধিমালা সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার। তাতে শুধু প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কথা বলা হয়। সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ তখন বিধিমালা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম






















