বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচর গ্রামের পুরাতন ফেরিঘাট সংলগ্ন আড়িয়াল খাঁ নদীতে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকাজুড়ে নদীতীর বিলীন হয়ে যাওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে সরকারি রাস্তা, বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছরই এ এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিলেও স্থায়ী কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে বর্ষা এলেই আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মালেক মোল্লা (৬৫) বলেন, বর্ষার আগেই ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হলে ভাঙনের গতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। দেরি হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
হারুন মুন্সি (৬০) বলেন, প্রতিবছরই নদীভাঙনের আতঙ্কে থাকতে হয়। একটি স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।
সেলেম কাজী (৫৫) বলেন, কয়েকদিন আগে সংসদ সদস্য এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আমরা চাই, খুব দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হোক। মানুষের জানমাল রক্ষায় এখনই পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল কাদের বলেন, ভাঙনের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। খুব শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হবে। পাশাপাশি সেখানে স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষার পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আগেই জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেয়া না হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বহু পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়তে পারে।
=============সারাদেশ নিউজ========
১.চায়ের আড্ডায় যাওয়ার পথে মোবাইল মেকানিকের মৃত্যু
নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় বন্ধুদের সঙ্গে চা খেতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো.নাজিম হোসাইন (২৪) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একই বাড়ির আবির নামে আরও এক তরুণ গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দশঘরিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নাজিম উপজেলার পরকোট ইউনিয়নের পূর্ব শোশালিয়া গ্রামের আটঘর এলাকার মিঝি বাড়ির আমিন উল্যার ছেলে। তিনি পেশায় একজন মোবাইল মেকানিক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজিম ও তার প্রতিবেশী আবির মোটরসাইকেলযোগে আটঘর এলাকা থেকে উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকায় চা খেতে যাচ্ছিলেন। পথে দশঘরিয়া এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে ঢাকা নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাজিমের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, আবিরকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় ঢাকা নেওয়া হয়েছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, নাজিম গত তিন বছর ধরে চাটখিল পৌর মার্কেটের 'সুজন টেলিকম'-এ মোবাইল মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন। মাত্র একদিন আগে তিনি সেখান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন। তার স্বপ্ন ছিল ঢাকায় গিয়ে আইফোন মেরামতের কাজ শিখে নিজেকে আরও বড় পরিসরে প্রতিষ্ঠিত করা।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, নিহতের স্বজনরা বিষয়টি পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে আমরা খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
২.
বিশেষ প্রতিনিধি | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম





















