মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

ছাদবাগানের চাহিদায় বদলাচ্ছে গাছের বাজার

ছাদবাগানের চাহিদায় বদলাচ্ছে গাছের বাজার

একসময় শহুরে ছাদ মানেই ছিল খোলা-ফাঁকা জায়গা। শুকানো হতো জামাকাপড়। এখন অনেকের ছাদেই গড়ে উঠছে শাকসবজি কিংবা ফল-ফুলের বাগান। বদলে যাওয়া নগরজীবনের এ প্রভাব পড়েছে গাছের বাজারেও। চাহিদা বাড়ছে ছাদবাগান উপযোগী ছোট আকারের দেশি-বিদেশি নানা জাতের চারার। তবে মানুষকে আরও আগ্রহী করে তুলতে উৎসাহ দিচ্ছে বন বিভাগ। ছাদবাগানে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মিলছে নগদ টাকাসহ জাতীয় পুরস্কারও।


জাতীয় বৃক্ষমেলায় আগে সাধারণত আম, কাঁঠাল, লিচুর পরিচিত চারাই খুঁজতেন ক্রেতারা। আধুনিকায়নের সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলেছে। মেলায় এসে বেশিরভাগ মানুষই ডোয়ার্ফ, সেমি-ডোয়ার্ফ, বিদেশি, আগাম, মধ্য ও লেট জাতের ফলগাছের খোঁজ করছেন। ছাদবাগানের চাহিদার কারণেই বাজারে নতুন নতুন জাতের চারার সরবরাহ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন নার্সারি মালিকরা।


প্রতিবছরের আষাঢ়ে দেশজুড়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন করে সরকার। এবারও ব্যতিক্রম ঘটেনি। ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মাসব্যাপী এ মেলা শুরু হয়েছে ৯ জুলাই। এবারের মেলায় ছাদবাগানে লাগানোর মতো আম, মাল্টা, পেয়ারা, অ্যাভোকাডোসহ ছোট আকারের ফলগাছ সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে। তবে মেলার শুরুতে ক্রেতা কম থাকলেও দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঝামাঝি বা শেষের দিকে বেচাকেনা বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


বৃক্ষমেলায় বাহারি জাতের আমসহ ফলজ-বনজ গাছের স্টল দিয়েছেন জেএম ট্রপিক্যাল ফ্রুট পার্কের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জুয়েল আহমেদ চৌধুরী। তাদের সংগ্রহে রয়েছে প্রায় ১৪০০-১৫০০ জাতের ফলগাছ। এর মধ্যে আমই প্রায় ৪০০ জাতের। মেলায় তারা ২০০টির বেশি আম ও দেড় শতাধিক প্রজাতির কমলা-মাল্টা চারা নিয়ে এসেছেন।

জুয়েল আহমেদ বলেন, বর্তমান সময়ে ছাদবাগান বা ছোট পরিসরের বাগান শুধু দেশি ফলেই সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক ও উন্নত জাতের ফলগাছও অনেকেই লাগাচ্ছেন। এজন্য আমরা দেশীয় প্রজাতির পাশাপাশি বিদেশি গাছের প্রতি জোর দিচ্ছি। কেননা আমরা বাণিজ্যিক এসব জাত ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি, যেন দেশের মানুষও এ ধরনের ফলের চাষ করতে পারেন।


তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় উদ্ভাবিত রোজিগোল্ড, আর্লিগোল্ড, সানরাইজ, আগলি বেটি, টমি অ্যাটকিন্স, কেইট, অস্টিন, এঞ্জি, থাইল্যান্ডের ব্যানানা, ভারতের আলফানসো, কেসরসহ বহু বিদেশি আমের জাত রয়েছে। এসব আম দেশের জনপ্রিয় জাতের চেয়েও বেশি মিষ্টি। এমনকি বাণিজ্যিকভাবেও সম্ভাবনাময়। কিন্তু অনেকেই মনে করেন বিদেশি ফল মানেই স্বাদ কম। আসলে এ ধারণা সঠিক নয়


তার মতে, আম ও কমলা-মাল্টা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হলো বাংলাদেশের আবহাওয়া। সঠিক জাত বাছাই ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে এসব ফল দেশের সব অঞ্চলে উৎপাদন করা সম্ভব। তবে ছাদবাগানের জন্য ডোয়ার্ফ বা সেমি-ডোয়ার্ফ জাতের গাছ নির্বাচন করতে হবে। যেসব লাগালে ছোট জায়গাতেই দীর্ঘদিন ধরে ফল খাওয়া যাবে। আর এসব গাছ সহজে নিয়ন্ত্রণেও রাখা যায়। বর্তমানে ছাদবাগান উপযোগী ছোট আকারের এ ধরনের গাছের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন জেএম ট্রপিক্যাল ফ্রুট পার্কের এই স্বত্বাধিকারী।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন