মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বুবারতল আজ শুধু একটি গ্রামের নাম নয়, এটি হয়ে উঠেছে সবুজ অর্থনীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখানকার সুগন্ধি ও রসালো ‘জারা লেবু’ স্থানীয় অর্থনীতিতে এনেছে নতুন প্রাণ, যা হাজারো কৃষক পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বুবারতলে উৎপাদিত জারা লেবু ক্রয়-বিক্রয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও এই লেবুর চাহিদা বিদেশের বাজারেও রয়েছে। ফলে মৌসুম এলেই বুবারতলের বাগানগুলোতে জমে ওঠে কৃষক, পাইকার ও পরিবহন শ্রমিকদের ব্যস্ততা।
একসময় এলাকার যে জমি পতিত পড়ে থাকতো, ফসলের আবাদ হতো না, আজ সেসব জায়গায় সারি সারি জারা লেবুর গাছ সবুজের সমারোহ সৃষ্টি করেছে। বুবারতলে রয়েছে ১২টি গ্রাম। প্রায় ১২শত পরিবার লেবু চাষের সঙ্গে জড়িত। অনুকুল আবহাওয়া, ঊর্বর মাটি এবং কৃষকদের নিরলস পরিশ্রমে সাইট্রাস জাতীয় ফল লেবু এখন এলাকার অন্যতম অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় চাষীরা জানান, তুলনামুলক কম খরচে চাষ করা সম্ভব হওয়ায় জারা লেবু লাভজনক আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। একে ঘিরে গড়ে উঠেছে সংগ্রহ, পরিবহন, প্যাকেজিং ও বিপণনের কর্মসংস্থান। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজারো মানুষ জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় গাইন্দাইল গ্রামের ফখরউদ্দিনের সাথে। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের উদ্দিপনায় ৪-৫ বছর ধরে লেবু চাষ করে আমরা অনেক লাভবান। প্রতি ঘরেই জারা লেবুর চাষ হচ্ছে। যে জমি পতিত থাকত। আজ সেই জমিতে সবুজ অর্থনীতির নব যাত্রা শুরু হয়েছে। এলাকার লোকজন পরিবারের খরচ এই লেবু চাষের আয় থেকেই যোগান দিচ্ছেন।
সাবেক ইউপি সদস্য তাজ উদ্দিন বলেন, জারা লেবু চাষে সবার মুখে স্বচ্ছলতার হাসি ফুটেছে। প্রতি বাড়িতে সারি সারি গাছ, ভরে উঠেছে থোকা থোকা লেবু। তবে দুঃখ একটাই আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। ফলে প্রান্তিক চাষীদের চেয়ে মধ্যস্বত্বভোগিরা বেশী লাভবান হচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আধুনিক সংরক্ষণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, সহজ বাজারজাতকরণ এবং রপ্তানি সুবিধা আরও সম্প্রসারিত হলে বুবারতলের জারা লেবু দেশের কৃষি অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।
বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, বুবারতলসহ বর্তমানে বড়লেখা উপজেলায় রয়েছে ১ লাখ ৮০০টি জারা লেবুর গাছ। প্রতি বছর ১টি গাছ থেকে ৫ হাজার টাকার লেবু উৎপাদন হলে গাণিতিক হিসাবে এখানে ৫০ কোটি টাকার লেবু উৎপাদন হচ্ছে। আমরা ফাইটোস্যানেটারী সনদভুক্ত হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সনদভুক্ত হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে লেবু রপ্তানি করা যাবে।
বিশেষ প্রতিনিধি | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম























