শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬

কুমিল্লায় বীজতলা থেকে পানি নামায় কৃষকের স্বস্তি

কুমিল্লায় বীজতলা থেকে পানি নামায় কৃষকের স্বস্তি

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে টানা ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তলিয়ে যাওয়া আমন ধানের বীজতলার পানি নামতে শুরু করেছে। ভাদ্রের তীব্র রোদে জমি শুকিয়ে যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মধ্যে।


তবে পানি নেমে গেলেও বিপদ কাটেনি। চারার পাতায় জমে থাকা কাদা পরিষ্কার এবং সঠিক পরিচর্যা না করলে দুর্বল হয়ে পড়া চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 


বুড়িচং সদর উপজেলার কৃষক আমির হোসেন বলেন, এ বছর আমন ধানের চারা রোপণ করার পর থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়। অতিবৃষ্টির কারণেই এলাকার অধিকাংশ ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। তবে এখন পর্যাপ্ত রোদ হওয়ায় ধানের বীজতলা শুকিয়ে চারাগুলো এখনও টেকার সম্ভাবনা রয়েছে। 


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিনা আক্তার বলেছেন, জমিতে যেন কোনো জলাবদ্ধতা না থাকে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি সাবধানে চারাগুলোকে স্প্রের মাধ্যমে পরিষ্কার করতে হবে। প্রয়োজনে ভালো ভিটামিন স্প্রে করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি কৃষকদের ভবিষ্যতে বীজতলা তৈরির ক্ষেত্রে আরো উঁচু জমি নির্বাচন করার পরামর্শ দিয়েছেন।  


আফরিনা আক্তার আরও বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১২০ হেক্টর জমি। এসব জমিতে ধান রোপণের জন্য ৫৩০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল। তবে টানা বৃষ্টির কারণে সামান্য ক্ষতি হলেও আমরা উপজেলা অফিস থেকে কৃষকদের ব্রি-২২ জাতের ধান সংগ্রহ করে দিয়েছি। এখনো যে সময় আছে, নতুন বীজতলা তৈরির মাধ্যমে আমন ফলানো সম্ভব হবে।


উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী মাঠ কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকার অনেক আমন বীজতলা এখনো পানির নিচে ডুবে আছে। আমনের চারা আক্রান্ত হয়েছে। তবে বীজতলা থেকে পানি নেমে যাওয়ায় পর পরিচর্যা করলে ক্ষতি কমবে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের এ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন