বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় দুই লাখ বাংলাদেশি নিয়োগের বিষয়ে মিলল নতুন তথ্য

মালয়েশিয়ায় দুই লাখ বাংলাদেশি নিয়োগের বিষয়ে মিলল নতুন তথ্য

আগামী ছয় মাসের মধ্যে মালয়েশিয়া প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ করবে— সম্প্রতি এমন একটি খবর প্রচার হয়েছে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে। একজন প্রতিমন্ত্রীর বরাতে এই খবর প্রকাশ করে গণমাধ্যমগুলো, যার ফলে ব্যাপক আশার সঞ্চার হয় জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুক দেশের বড় একটি অংশের মধ্যে। এই প্রেক্ষাপটে এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন মালয়েশিয়া সরকারের মুখপাত্র এবং যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল।

বুধবার(২ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে মালয়েশিয়ায় প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের যে তথ্য, তা বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান নয়। বরং এটি বাংলাদেশের এক প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বক্তব্য। খবর নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের।

সংবাদ সম্মেলনে ফাহমি ফাদজিল বলেন, ‘কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আমি মানবসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে বিবৃতিটি বাংলাদেশ সরকারের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, কেবল একজন প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য।’



এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেছিলেন, চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকেই মালয়েশিয়ায় পর্যায়ক্রমে প্রায় দুই লাখ কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা ওসমানের সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী আব্দুল মঈন খানের সাক্ষাতের পর তিনি সাংবাদিকদের এই তথ্যের কথা জানান।



অন্যদিকে, মিয়ানমার এখনও শরণার্থীদের জন্য অনিরাপদ বলে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রসঙ্গেও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন ফাহমি।



মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসানের বরাত দিয়ে ফাহমি ফাদজিল জানান, স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার কর্মসূচির প্রথম ধাপে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৪৭৬ জন শরণার্থী নথিতে স্বাক্ষর করে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার সম্মতি দিয়েছেন।



ফাহমি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের হাতে আটক ১০ হাজারের বেশি মিয়ানমার শরণার্থীর মধ্য থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৫ হাজার জনকে বাছাই করে মিয়ানমার দূতাবাসে তালিকা পাঠায়। সেই তালিকা থেকেই মিয়ানমার সরকার আপাতত ১ হাজার ৪৭৬ জনকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, ফেরত পাঠানো এসব শরণার্থী মিয়ানমারে নিরাপদ থাকবেন এবং তাদের কোনো ক্ষতি হবে না।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন