শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এমবাপের পেনাল্টি মিস, বেতিসের মাঠে রেয়াল মাদ্রিদের হার

এমবাপের পেনাল্টি মিস, বেতিসের মাঠে রেয়াল মাদ্রিদের হার

এক ম্যাচ আগেই হ্যাটট্রিক করা কিলিয়ান এমবাপে যেন ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়লেন। দারুণ সব সুযোগ নষ্ট করার পর, পেনাল্টি পেয়েও কাজে লাগাতে পারলেন না তিনি। অধিকাংশ সময় ঘর সামলাতে ব্যস্ত রেয়াল বেতিস সুযোগ কাজে লাগিয়ে পেল স্মরণীয় জয়।


প্রতিপক্ষের মাঠে শুক্রবার লা লিগার ম্যাচটি ১-০ গোলে হেরেছে জোসে মরিনিয়োর দল। একমাত্র গোলটি করেন ট্রয় প্যারোট।


আসরের দ্বিতীয় রাউন্ডে এমবাপের হ্যাটট্রিকে রেয়াল সোসিয়েদাদকে ৪-১ গোলে হারায় রেয়াল মাদ্রিদ। গত রাউন্ডে মালাগাকে ৪-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় তারা। প্রথম তিন ম্যাচে ১০ গোল করা দলটি এবার গোল করতেই ভুলে গেল।


দুই ম্যাচে চার গোল করা এমবাপে এদিন একাই তিনটি সুবর্ণ সুযোগ হারান। অবশ্য দুর্ভাগ্যও তাদের সামনে বারবার বাধা হয়ে দাঁড়ায়, এমবাপের একটিসহ দলটির মোট তিনটি প্রচেষ্টা পোস্ট বা ক্রসবারে লাগে।


চার ম্যাচে তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত দুইয়ে আছে রেয়াল মাদ্রিদ। তাদের সমান পয়েন্ট নিয়ে তিনে বেতিস।


তিন ম্যাচ খেলে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা।


একাদশ মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারে রেয়াল মাদ্রিদ। ডান দিক গোলমুখে ক্রস বাড়ান আর্দা গিলের এবং বলের লাইনে পা বাড়িয়ে দেন ডিন হাউসেন, ঝাঁপিয়ে তার প্রচেষ্টা রুখে দেন গোলরক্ষক।


তিন মিনিট পর আবার ভীতি ছড়ান গিলের। এমবাপের দারুণ পাস ডি-বক্সে পেয়ে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে দূরের পোস্টে বল বাড়ান তুর্কি মিডফিল্ডার, দূরুহ কোণ থেকে ভিনিসিউসের শট পোস্টে লাগে।


৪৩তম মিনিটে মুহূর্তের ব্যবধানে দুটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন এমবাপে। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের থ্রু বল দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সবার আগে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন ভিনিসিউস, তাকে বাধা দিতে সেদিকে এগিয়ে যান গোলরক্ষক, সেই মুহূর্তে ডান দিকে ছোট পাস বাড়ান ব্রাজিলিয়ান তারকা। ফাঁকায় বল পেয়ে এমবাপের নেওয়া প্রথম বেতিসের এক খেলোয়াড়ের শরীরে বাধা পায়, ফিরতি বল পেয়ে ফরাসি তারকা আরেক ডিফেন্ডারের গায়ে মারেন।


বিরতির আগের বাকি সময়ে আরও দুটি দারুণ সুযোগ পায় সফরকারীরা। প্রথমবার কর্নারে জুড বেলিংহ্যামের হেড ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক, দ্বিতীয়বার কর্নারেই হাউসেনের হেড ক্রসবারে বাধা পায়।


দ্বিতীয়ার্ধেও একইভাবে চাপ ধরে রাখে রেয়াল মাদ্রিদ; কিন্তু গোলের দেখা মিলছিল না। ৬৭তম মিনিটে আবারও হতাশ করেন এমবাপে। হাউসেনের থ্রু পাস ডি-বক্সে ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণেই নিতে পারেননি তিনি, পরে কোনোমতে দুর্বল শট নিলেও তা গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেনি।


প্রথমার্ধে একবারও প্রতিপক্ষ শিবিরে ভীতি ছড়াতে না পারা, ৮০ মিনিটে একবারও প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের পরীক্ষা নিতে পারা দলটিই ৮১তম মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট নিয়েই এগিয়ে যায়।


কর্নারে মিডফিল্ডার নেলসন দেয়োসার হেড ঝাঁপিয়ে এক হাতে আটকান থিবো কোর্তোয়া, কিন্তু দলকে বিপদমুক্ত করতে পারেননি তিনি। ফিরতি বল গোলমুখে ফাঁকায় পেয়ে জোরাল শটে জালে পাঠান আইরিশ স্ট্রাইকার ট্রয় প্যারোট।


চার মিনিট পর আবার দুর্ভাগ্য বাধা হয়ে দাঁড়ায় রেয়াল মাদ্রিদের সামনে। এবার এমবাপের চিপ শট ক্রসবারে লাগে। দুই মিনিটের মধ্যে অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে বল জালে পাঠান খানিক আগে বদলি নামা কার্লোস এস্পি; তবে ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি।


নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ম্যাচ তখন যোগ করা সময়ে, মাদ্রিদের দলটির সামনে হঠাৎ করেই হার এড়ানোর সুযোগ চলে আসে। ডি-বক্সে ভিনিসিউস ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় তারা। কিন্তু এমবাপের দুর্বল স্পট কিক ঠেকিয়ে দেন আলভারো।


প্রতিযোগিতাটির রেকর্ড চ্যাম্পিয়নদের শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাও তাতে একরকম শেষ হয়ে যায়।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন