নাম দুইজনেরই ‘এবি’ আদ্যক্ষরে পরিচিত। একজন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন, অন্যজন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় মুখ অপু বিশ্বাস। চলচ্চিত্রজগতে পরিচিতি, জনপ্রিয়তা ও ক্যারিয়ারের ব্যাপ্তিতে দুজনের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য থাকলেও জন্মদিনের তারিখে মিলে গেছে তাদের হিসাব। আজ ১১ অক্টোবর, এ দুই তারকারই জন্মদিন।
জন্মদিন ঘিরে ভক্তদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন দুজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রিয় তারকাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন অনুরাগীরা।
অপু বিশ্বাসের জন্মদিন উদযাপন শুরু হয়েছে রাত ১২টার পর থেকেই। ছেলে আব্রাম খান জয়কে সঙ্গে নিয়ে কেক কেটেছেন তিনি। কেকের ওপর লেখা ছিল, ‘হ্যাপি বার্থডে মম। আই লাভ ইউ।’ জন্মদিনের আগের দিন কেক হাতে একটি সাদাকালো ভিডিও প্রকাশ করে নিজের নতুন বছর নিয়ে প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। সেখানে তিনি আরও হাসি, শিক্ষা ও ভালোবাসায় ভরা একটি বছরের কামনা করেন।
অন্যদিকে, জন্মদিনের সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বার্তা দিয়েছেন অমিতাভ বচ্চন। সেখানে ভক্তদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘সকাল হয়ে গেলো। এই যে আমি, তোমাদের পাশেই আছি।’
আট দশক পেরিয়ে অমিতাভের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার
১৯৪২ সালের ১১ অক্টোবর ভারতের এলাহাবাদে জন্মগ্রহণ করেন অমিতাভ বচ্চন। তার বাবা কবি হরিবংশ রাই বচ্চন এবং মা তেজি বচ্চন। অভিনেতার প্রকৃত নাম অমিতাভ শ্রীবাস্তব। পরে বাবার পরামর্শে মায়ের পদবি ‘বচ্চন’ নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত করেন তিনি।
১৯৬৯ সালে মৃণাল সেনের ‘ভুবন সোম’ চলচ্চিত্রে কণ্ঠ বর্ণনাকারী হিসেবে সিনেমাজগতে তার যাত্রা শুরু হয়। একই বছর ‘সাত হিন্দুস্তানি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। এরপর ছয় দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন এ তারকা।
‘শোলে’, ‘দিওয়ার’, ‘ডন’, ‘অমর আকবর অ্যান্থনি’, ‘কুলি’, ‘শাহেনশাহ’, ‘চুপকে চুপকে’ ও ‘কাভি খুশি কাভি গাম’-এর মতো সিনেমা তাকে দর্শকের কাছে স্মরণীয় করে রেখেছে। পরবর্তী সময়েও একাধিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
অভিনয়জীবনে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে চারবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মান পেয়েছেন অমিতাভ। এ ছাড়া ১৬টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারসহ ভারতের পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ ও দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।
অপু বিশ্বাসের তারকাখ্যাতির শুরু ‘কোটি টাকার কাবিন’ দিয়ে
অপু বিশ্বাসের প্রকৃত নাম অবন্তী বিশ্বাস। ১৯৮৯ সালের ১১ অক্টোবর বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছোটবেলায় নাচ শেখার মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার পথচলা শুরু হয়। পরে অভিনয়ে যুক্ত হন এ অভিনেত্রী।
২০০৫ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘কাল সকালে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় অপুর। পরের বছর এফ আই মানিক পরিচালিত ‘কোটি টাকার কাবিন’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। ছবিটির সাফল্যের পর শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে একের পর এক বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিনয় করেন।
‘দাদীমা’, ‘চাচ্চু’, ‘আমার জান আমার প্রাণ’, ‘মনে প্রাণে আছো তুমি’, ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’, ‘নিঃশ্বাস আমার তুমি’ ও ‘কোটি টাকার প্রেম’ তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে।
অমিতাভ বচ্চনের মতো বড় পরিসরের পুরস্কার অর্জন না করলেও ঢাকাই চলচ্চিত্রে নিজস্ব দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করেছেন অপু বিশ্বাস। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ব্যবসা ও পরিবারকে সময় দিচ্ছেন তিনি।
দুই ভিন্ন চলচ্চিত্রশিল্পের এ দুই তারকার জন্মদিনে ভক্তদের শুভেচ্ছা আর ভালোবাসায় মুখর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। একজন বিশ্বজুড়ে পরিচিত বলিউডের শাহেনশাহ, অন্যজন ঢালিউডের পরিচিত মুখ—১১ অক্টোবর তাদের জীবনের বিশেষ দিন।
ডেস্ক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম






















