সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাবাজার পত্রিকা.কম সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল বাংলাবাজার পত্রিকা.কম চকলেটের তৈরি আস্ত ট্রেন, গড়ল নতুন বিশ্ব রেকর্ড বাংলাবাজার পত্রিকা.কম শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ১৮ মাস পর নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরলেন ড. ইউনূস বাংলাবাজার পত্রিকা.কম সংসদ বসছে ১২ মার্চ, নির্বাচিত হবেন স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ‘মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্যান্য আন্দোলন-সংগ্রামকে এক করে দেখা ঠিক হবে না’ বাংলাবাজার পত্রিকা.কম নতুন সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে চাই: প্রণয় ভার্মা বাংলাবাজার পত্রিকা.কম রাজনৈতিক হয়রানিমূলক সহস্রাধিক মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন বাংলাবাজার পত্রিকা.কম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাবাজার পত্রিকা.কম মাদারীপুরে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষ, ৪ ঘণ্টায় শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ

ঢাকার কাছে একই স্থানে বারবার ভূমিকম্প, যা জানা গেল

ঢাকার কাছে একই স্থানে বারবার ভূমিকম্প, যা জানা গেল

মাত্র দুদিনের ব্যবধানে ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা ১৪ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১, যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর শিবপুর।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দেশে একটি বড় ভূমিকম্প হওয়ার পর ছোট ছোট মৃদু অনেকগুলো ভূমিকম্প হয়েছে, এগুলো আমরা এখন পর্যন্ত আফটারশক হিসেবে দেখতে পেয়েছি। 

আফটারশক হিসেবে আরও কেমন ভূমিকম্প হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে এমন তথ্য আপাতত নেই। তবে যেগুলো হয়েছে তা থেকে আমাদের গবেষণা বলছে সবগুলোই আফটারশক।

এদিকে গত ২১ নভেম্বর (শুক্রবার) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে সর্বপ্রথম। এর উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদী এটি ঢাকা থেকে প্রায় ২৫-৪০ কিমি দূরে। (এটিই ছিল সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প)। পরে ২২ নভেম্বর (শনিবার) সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ৩.৩ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্প। উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর পলাশ। সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ৪.৩ মাত্রার ভূমিকম্প। উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী থেকে ১১ কিমি পশ্চিমে (ইউএসজিএস) ৩.৭ মাত্রার (ইএমএসসি)।

একইদিন সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৫ সেকেন্ডে আরেকটি ভূমিকম্প হয়েছে এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী। মোট (২১ ও ২২ নভেম্বর প্রায় ৩১ ঘণ্টার মধ্যে)- ঢাকা ও এর আশপাশে চারবার ভূমিকম্প হয়। ২৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার)- বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডে ৩.৬ মাত্রার ভূমিকম্প। উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর ঘোড়াশাল। বিশেষজ্ঞের মতে, এই তারিখ পর্যন্ত গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) থেকে মোট ৬ দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পগুলো একটি বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস। ভূতাত্ত্বিকরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে বাংলাদেশ একটি সক্রিয় প্লেট সীমান্তে অবস্থান করছে, যেখানে যেকোনো সময় বড় ধরনের কম্পন ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞ মত অনুযায়ী, বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের প্রধান উৎস দুটো। এর একটি হলো ‘ডাউকি ফল্ট’, যা ভারতের শিলং মালভূমির পাদদেশে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ-জামালগঞ্জ-সিলেট অঞ্চলে বিস্তৃত যা প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ।

আরেকটি হলো- সিলেট থেকে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, টেকনাফ পর্যন্ত যা সব মিলিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই উৎসটিকে খুব ভয়ংকর বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকার ভূমিকম্পে ভয়াবহ ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকা ১৫টি এলাকা রয়েছে। সেইগুলো হলো- সবুজবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, কাফরুল, ইব্রাহিমপুর, কল্যাণপুর, গাবতলী, উত্তরা, সূত্রাপুর, শ্যামপুর, মানিকদী, মোহাম্মদপুর, পল্লবী, খিলগাঁও, বাড্ডা।

৩২টি এলাকার জরিপ

ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলে ঝুঁকি বেশি রাজধানীর ভূমিকম্প ঝুঁকি মূল্যায়নে মোট ৩২টি এলাকার ভৌত কাঠামো পর্যালোচনা করা হয়।  এই জরিপে উত্তরা, গুলশান, ধানমন্ডি, তেজগাঁও, রমনা, শাহবাগ, আজিমপুর থেকে শুরু করে কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, সূত্রাপুর, শ্যামপুর, পল্লবী, কল্যাণপুর, মিরপুর, গাবতলী- ইত্যাদির মতো ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।

জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, কাঠামোগত দুর্বলতা এবং উদ্ধারকাজের সীমাবদ্ধতার কারণে ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তরাঞ্চলের কাফরুল, ইব্রাহিমপুর, কল্যাণপুর, মানিকদী ও গাবতলীসহ বেশ কিছু এলাকাও উচ্চ ঝুঁকির আওতায় রয়েছে।


সম্পাদক : আবদুল মাতিন