রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে অচলাবস্থা

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে অচলাবস্থা

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাদার ভেসেল (বড় জাহাজ) থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রমে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য, সার ও শিল্পের কাঁচামাল নিয়ে সাগরে ভাসছে ৮৫টির বেশি জাহাজ। লাইটার জাহাজের অভাবে ঠিক সময়ে খালাস করা যাচ্ছে না পণ্য। পণ্য খালাস করতে না পেরে প্রতিদিন মাশুল গুনছেন ব্যবসায়ীরা।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সংকটের পেছনে লাইটারেজ জাহাজের অভাবের চেয়ে অব্যবস্থাপনা ও জাহাজের অপব্যবহারই বেশি দায়ী।

জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে খাদ্যশস্য নিয়ে আসা বেশ কিছু লাইটারেজ জাহাজ বিভিন্ন গন্তব্যে গিয়ে পণ্য খালাস না করে মাসের পর মাস সাগরে ভাসছে। আমদানিকারকরা এসব জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন, যার ফলে পণ্যবাহী এসব জাহাজ মূল ধারায় ফিরে আসতে পারছে না। ব্যবসায়ী মহলের মতে, এটি একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সংকট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ তাদের নিজস্ব লাইটারেজ জাহাজ দিয়ে পণ্য খালাস করলেও বাকি আমদানিকারকরা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি) থেকে জাহাজ বুকিং নেন। চাহিদা অনুযায়ী লাইটারেজ জাহাজ মিলছে না। যে কারণে অর্ধশতাধিক জাহাজের পণ্য খালাস বন্ধ আছে।


শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস সূত্র জানায়, সাধারণ সময়ে একটি মাদার ভেসেল প্রায় ৫০ হাজার টন পণ্য নিয়ে বন্দরে এলে লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পণ্য খালাস শেষ করে চলে যায়। কিন্তু বর্তমানে লাইটারেজ সংকটের কারণে সেই সময়সীমা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। অনেক জাহাজকে ২০-৩০ দিন বহির্নোঙরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আর কিছু জাহাজ কয়েক দিন ধরে এক টন পণ্যও খালাস করতে পারছে না।



শিপহ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, বর্তমানে বহির্নোঙরে থাকা প্রতিটি মাদার ভেসেলকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬ লাখ টাকা করে ড্যামারেজ বা জরিমানা গুনতে হচ্ছে।


বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএইচবিওএ) সভাপতি সরওয়ার হোসেন সাগর জানান, ‘জাহাজ আসছে দ্রুত, কিন্তু পণ্য খালাস করতে পারছি না। প্রতিদিন স্বাভাবিক পণ্য প্রবাহ বজায় রাখতে যেখানে ২০০-৩০০ লাইটারেজ জাহাজ প্রয়োজন, সেখানে বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০-৪০টি। এতে খালাস কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে গেছে।’


বিডব্লিউটিসিসি এই সংকটের পেছনে ঘন কুয়াশা এবং বিএডিসির সারের কাজে নিয়োজিত ১৪০টি জাহাজ আটকে থাকাকে দায়ী করেছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কুয়াশার কারণে কিছুটা দেরি হলেও মূল সমস্যাটি ব্যবস্থাপনার। সংকট নিরসনে জাহাজের সিরিয়াল প্রথা তুলে দিয়ে উন্মুক্ত ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানিয়েছেন অপারেটররা।

ইনল্যান্ড ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগংয়ের (আইভোয়াক) সহ সভাপতি পারভেজ আহমেদ বলেন, বিডব্লিউটিসিসির অধীনে ১ হাজার ২০০টির মতো লাইটার জাহাজ ছিল। এর মধ্যে ৩০০ কাছাকাছি লাইটার জাহাজ মোংলা বন্দরে চলে যায়। ৬৮৭টি জাহাজ বহির্নোঙর থেকে পণ্য বোঝাই শেষ করে যাওয়ার পর খালাস করে ফিরে না আসায় আমরা চাহিদা অনুযায়ী জাহাজ বরাদ্দ দিতে পারছি না।


তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবে বহির্নোঙর থেকে পণ্য নিয়ে ঘাটে খালাস করতে একটি লাইটার জাহাজের ৩ থেকে সর্বোচ্চ ৫ দিন সময় লাগে, সেখানে একেকটি লাইটার জাহাজ এখন এক থেকে দেড় মাস ধরে পণ্য খালাস না করে বসে আছে।

সম্পাদক : অপূর্ব আহমেদ