রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসার্টে ফ্রি সিগারেট বিতরণ, তোলপাড়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসার্টে ফ্রি সিগারেট বিতরণ, তোলপাড়

শীতার্তদের পাশে দাঁড়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও স্পিরিট অব জুলাই নামে একটি প্ল্যাটফরমের উদ্যোগে আয়োজিত ‘কুয়াশার গান’ সংগীতানুষ্ঠানে স্মোকিং জোনে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণ করা হয়েছে।

এই ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজক ডাকসু ও স্পিরিটস অব জুলাই।
শনিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ।


এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দাতব্য এই সংগীতানুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় ডাকসু ও স্পিরিটস অব জুলাই। ১৭ জানুয়ারি বিকেল থেকে এই সংগীতানুষ্ঠান ঢাবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়৷ সংগীতানুষ্ঠান কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শুরু হলে মাঠের মধ্যে স্মোকিং জোনে ফ্রি-তে সিগারেট বিতরণ করতে দেখা যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাঝে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনা করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী সাকিব বিশ্বাস ফেসবুকে লেখেন, ডাকসু কর্তৃক আয়োজিত কনসার্টে আজ একটি লজ্জাজনক ঘটনা ঘটে। কনসার্টে আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানি অত্যাধুনিক দোকান বসিয়ে ফ্রিতে ঢাবি শিক্ষার্থীদের মাদক সেবন করাচ্ছে। ডাকসু কি ঢাবি শিক্ষার্থীদের মাদক সেবনে মোটিভেট করে?একদিকে মাদকের বিরুদ্ধে তথাকথিত অভিযান এবং অন্যদিকে মাদক সেবনে মোটিভেট করা — এ কেমন দ্বিচারিতা? শিবির করলে কি সব কিছুই বৈধতা পায়? আশ্চর্য!

মোছাম্মৎ আছিয়া আক্তার নামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের এক নারী শিক্ষার্থী ফেসবুকে লেখেন, আমি জানতাম না কনসার্টের স্পন্সর কারা। এখন শুনতেছি কোনো এক বিড়ি কোম্পানি।


এমনকি ফ্রি বিড়ি বিলাইছে নাকি কনসার্টে! আপনি ভাবতে পারেন এসব! এটা একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসার্ট। আয়োজন করেছে ডাকসু আবার স্লোগান মারায় মঞ্চে - গোলামি না সংস্কার। গত ৩০ ডিসেম্বর সরকার ধূমপান ও তামাক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫-এ পাবলিক প্লেসে ধূমপানের শাস্তি ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করেছে।
এদিকে ইসলামে ধূমপান হারাম। শিবিরের হাতে ইসলামের '''''' মারা সারা হবে মনে হচ্ছে! যা হোক, শিবিরীয় ডাকসুকে বিড়িময় অভিনন্দন এমন অভূতপূর্ব কনসার্ট আয়োজন করায়।

সংগীতানুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালান ও স্লোগান দেন। এ ছাড়া এ সময় তিনি কোটা না মেধা স্লোগান দিলে শিক্ষার্থীরা তার উত্তরে ব্যঙ্গ করে কোটা কোটা স্লোগান দেয়, গোলামী না আজাদী স্লোগানের বিপরীতে গোলামি গোলামি স্লোগান দেয়, তুমি কে আমি কে স্লোগানের বিপরীতে ইউরেনিয়াম বলে স্লোগান দেয়।

কনসার্ট আয়োজনের সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা ও সিগারেট বিতরণকেন্দ্রিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘কুয়াশার গান’ কনসার্টে স্পন্সরের সঙ্গে যোগাযোগ বা শর্ত নির্ধারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত ছিলেন না এবং পুরো ডাকসু এ আয়োজনে সম্পৃক্ত ছিল না। শিক্ষার্থীদের একাংশের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্পিরিট অব জুলাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কনসার্ট আয়োজন করেন, যদিও এতে ডাকসুর ভিপি ও একাধিক নেতা আপত্তি জানিয়েছিলেন।

তিনি আরো জানান, স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্মোকিং জোনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণের বিষয়টি তার অজানা ছিল এবং বিষয়টি জানার আগেই ঘটনা ঘটে যায়। এ ঘটনায় তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে আরো দায়িত্বশীল ও সতর্ক ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেন।

সম্পাদক : অপূর্ব আহমেদ