সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬

৭ মাসে ৬ খুন, সিরিয়াল কিলার সম্রাটকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

৭ মাসে ৬ খুন, সিরিয়াল কিলার সম্রাটকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

সাভার মডেল থানার ঢিল ছোড়া দূরত্বে সাভার প্রেসক্লাবের পাশেই পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার। সেখানে গত সাত মাসে একে একে ছয়টি লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) জোড়া লাশ উদ্ধারের পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। খুনি কোনো পেশাদার অপরাধী নয়; বরং থানার সামনেই ঘোরাঘুরি করা পরিচিত এক ভবঘুরে।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে সাভার মডেল মসজিদের সামনে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর গত বছরের ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে একটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার হয়। পরে একই স্থান থেকে গত ১৯ ডিসেম্বর আরও একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সর্বশেষ গত ১৮ জানুয়ারি রোববার সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবন থেকে আগুনে পোড়া অবস্থায় দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে আগুনে পোড়া দুটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর তদন্তকারীরা আগের খুনের সময় বসানো সিসিটিভি ফুটেজ এবং এক সাংবাদিকের ধারণ করা একটি ভিডিও বিশ্লেষণ করেন। দেখা যায়, মরদেহ কাঁধে নিয়ে যাচ্ছে এক ব্যক্তি, যাকে সবাই ছদ্মবেশী ভবঘুরে হিসেবে চিনত। পরে অভিযান চালিয়ে মশিউর রহমান খান সম্রাটকে আটক করে পুলিশ।


গত শুক্রবার ওই পরিত্যক্ত ভবনে এক নারী ও সম্রাটের ভিডিও ধারণ করেছিলেন সোহেল রানা নামের সাংবাদিক। ভিডিওতে ওই নারী নিজেকে সোনিয়া বলে পরিচয় দেন। এর দুদিন পরেই সেই নারীর পোড়া মরদেহ উদ্ধার হয়। সিসিটিভি ফুটেজে সম্রাটের গতিবিধি ও ভিডিওর কথোপকথন পর্যালোচনা করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, সম্রাটই আসল খুনি।


সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, সম্রাট একজন মানসিক বিকৃত বা ‘সাইকোপ্যাথিক’ কিলার। তার নিশানায় থাকত কেবল ভবঘুরেরা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে—গত সাত মাসে একই স্থানে ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রতিটি খুনের ধরন ছিল অভিন্ন ও নৃশংস। পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থার ক্রাইমসিন ইউনিটের চোখে ধুলো দিয়ে সে সাভার ব্যাংক কলোনি বা লালটেক এলাকায় ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াত।



ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, নিহতদের সবাই ভবঘুরে শ্রেণির। কেন এমন নৃশংসতা চালাত, সেই মোটিভ উদ্ঘাটন করা জরুরি। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য সোমবার তাকে আদালতে তোলা হবে।


সম্পাদক : অপূর্ব আহমেদ