খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য জ্ঞান অন্বেষণের এক বাতিঘর। ময়ূর নদীর তীরঘেষা ১০৬ একরের সবুজ শ্যামল ক্যাম্পাসটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গর্ব। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, পরিছন্ন সংস্কৃতিমনস্ক পরিবেশে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে পড়াশোনা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সাংস্কৃতিক ক্লাব শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে ভূমিকা রাখছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও উল্লেখ্যযোগ্য, বর্তমানে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৪৫ শতাংশ ছাত্রী।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা শুধু একাডেমিক উৎকর্ষই নয়, বরং গবেষণা, উদ্ভাবন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবিক উদ্যোগের ক্ষেত্রেও নিজেদের মেধা, নেতৃত্ব সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।
সুন্দরবনের নিকটে, ময়ূর নদীর তীরে এক বিস্তীর্ণ সবুজ ভূমিতে দাঁড়িয়ে আছে একটি স্বপ্নের প্রতীক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ সূত্রে জানা যায়,খুলনা অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ওঠে স্বাধীনতার পর থেকেই। দীর্ঘ আন্দোলন ও স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশার পর ১৯৮৭ সালের ৪ জানুয়ারি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৪ জুলাই পাশ হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯০ এবং ১৯৯১ সালের ৩১ শে আগস্ট প্রথম ক্লাস শুরু হয়। একই বছরের ২৫ শে নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয় মাত্র চার টি ডিসিপ্লিন দিয়ে।
স্থাপত্য, নগর ও গ্রামীন পরিকল্পনা, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে সর্বমোট ছাত্র সংখ্যা ছিল ৮০ জন।
প্রতিষ্ঠার সময় চারটি ডিসিপ্লিন থেকে আজ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটটি স্কুল ও ২৯ টি ডিসিপ্লিনে।বর্তমানে অধ্যয়ন করছে প্রায় আট হাজার ছাত্রছাত্রী। যার মধ্য ৪৫ জন বিদেশী শিক্ষার্থী পাঁচটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত পাঁচশো কুড়ি জন এর বেশি শিক্ষক। যাদের মধ্যে ২০০ জনের বেশি পি এইচ ডি ডিগ্রিধারী রয়েছেন।
গবেষণা
গবেষণা হলো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ইতিমধ্যেই প্রকাশ করেছেন দশ হাজারের বেশি গবেষণা প্রবন্ধ, যার মধ্য উল্লেখযোগ্য অংশ প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে।
জলবায়ু পরিবর্তন, উপকূলীয় ইকোসিস্টেম, বায়ো টেকনোলজি, ম্যানগ্রোভ বোন ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও জল সম্পদ, নগর গ্রামীন পরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়ন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক তহবিল, গবেষণা প্রশিক্ষণ ও প্রকাশনা সহায়তা প্রদান করে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পর্যায় বিশেষভাবে সমাদৃত। একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় গবেষণাগার বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে বায়োটেকনোলজি, পরিবেশ বিজ্ঞান, জলবায়ু পরিবর্তন, ন্যানো টেকনোলজি উপকূলীয় ইকোসিস্টেম নিয়ে উচ্চ প্রযুক্তি নির্ভর গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায় ১৯৯১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক হয়েছেন ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী, যাদের অনেকেই বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পদে, আন্তর্জাতিক সংস্থায়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ও শিল্প খাতে ভালো করেছেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সক্রিয়ভাবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও একাডেমিক সংযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিচ্ছে।
ইতিমধ্যেই ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার ৩৫টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি সম্পন্ন করেছে। সম্প্রতি চীনের শামেন বিশ্ববিদ্যালয় সঙ্গে উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও কোস্টাল ওয়েট ল্যান্ড ইকো সিস্টেম বিষয়ে যৌথ গবেষণার জন্য এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়। বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রযাত্রার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
লেখক: অধ্যক্ষ, মো শিমুল বিল্লাল বাপি
ডেস্ক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম























