সিলেটে হাওরে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ডুবে আছে ৩ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমির বোরো ধান। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া কাঁচা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা। শত শত সেচ যন্ত্র লাগিয়েও অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। রাতের বৃষ্টি আবার ভরে দেয় হাওর। বুকভরা কষ্ট নিয়ে এখন গবাদিপশুর জন্য কোমরপানিতে নেমে ধান কেটে নৌকায় করে বাড়ি ফিরছেন কৃষক। চোখের সামনেই কৃষকের সারা বছরের খোরাকি স্বপ্নের ফসলের এই ক্ষতি মানতে পারছেন না তারা। এদিকে গত সোমবার সিলেটে বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তি বোধ করেন। তবে প্রকৃতি এখনো টালমাটাল। কখন যে ভারী বৃষ্টি নামে। সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসেন সন্ধ্যায় বলেন, আগের মতো ভারী বৃষ্টি না হলেও আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি হতে পারে।
সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার দেখার হাওরপাড়ের ইসলামপুর গ্রামে পানির নিচ থেকে কাঁচা ধান কেটে নৌকায় তোলার দৃশ্য দেখা যায়। তলিয়ে যাওয়া কাঁচা ধান গরু, ছাগলের খাবারের জন্য ব্যবহার করা হবে। আবার কেউ এই ধান সিদ্ধ দিয়ে চাল বের করার চেষ্টা করবেন। কৃষকদের অভিযোগ, হাওরে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অধিকাংশ কৃষকের অপরিপক্ব কাঁচা ধান তলিয়ে যায়। তারা বলেন, ‘যদি হাওরের ফসল রক্ষাই না হলো, তা হলে খেত করে লাভ কী।’
ইসলামপুর গ্রামের কৃষক মকবুল মিয়া বলেন, আস্তমা এলাকায় বাঁধে কোনা স্লুইসগেট না থাকায় দেখার হাওরে বৃষ্টির পানিতে কৃষকের জমির আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘অপরিকল্পিত বাঁধ কৃষকের গলার ফাঁস’ হয়েছে। ইসলামপুরের আরেক কৃষক রশিদ মিয়া বলেন, জমিতে গলাসমান পানি। কৃষকের বাঁচার উপায় নাই। যে ধান কাটা হচ্ছে সেগুলো কিছুদিন পরে কাটলে পরিপক্ব হয়ে যেত।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুল ইসলাম কামরুল সোমবার জাতীয় সংসদে সমস্যার সমাধান চেয়ে বলেন, আমার এলাকায় অন্তত ৫০০ সেচ যন্ত্র নিষ্কাশনে লাগিয়েছি। তবু সমাধান হচ্ছে না। তিনি কৃষিমন্ত্রী ও পানিসম্পদ মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, জলাবদ্ধতায় অনেক কৃষকের ধান ডুবে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী মৌসুমে সার বীজ বাড়িয়ে দেওয়া হবে। হাওরে পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও স্লুইসগেট নির্মাণের বিষয়ে কাজ করা হবে।
সিলেট বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোশারফ হোসেন গতকাল রাতেবলেন, ৩ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমির ফসল ডুবে গেছে। এর মধ্যে হয়তো আংশিক উদ্ধার হবে। তিনি জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী সপ্তাহে ধান কাটা শুরু হবে। এরই মধ্যে ৩০৭ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। তবে জলাবদ্ধার করণে অনেক স্থানে ধান কাটার কম্বাইন্ড হারভেস্ট মেশিন চালানো যাবে না। তাই ধান কাটার শ্রমিক নিয়োগের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (১) মামুন হাওলাদার জানালেন, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে অর্ধশতাধিক স্লুইসগেট রয়েছে। তবুও নতুন করে অন্তত ১০-১৫টি হাওরে স্লুইসগেট নির্মাণ করতে হবে।
কৃষি অফিসের তথ্য মতে, সুনামগঞ্জ জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
বিশেষ প্রতিনিধি | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম























