রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

ট্রাম্পের মাথার জন্য ১২৩ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা

ট্রাম্পের মাথার জন্য ১২৩ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাথার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে ইরাকের ইসলামিক রেসিস্ট্যান্স গ্রুপ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই পুরস্কার প্রায় ১২৩ কোটি টাকার সমান।   


সম্প্রতি মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাথার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। যে ব্যক্তি তাকে হত্যা করবে, তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হবে।


এক বিবৃতিতে ইরাকের ইসলামিক রেসিস্ট্যান্স গ্রুপ জানিয়েছে, পুরস্কারের অর্থ দলের সদস্য ও সমর্থকদের অনুদানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। যে ব্যক্তি ট্রাম্পকে হত্যা করবে, তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হবে। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সত্তা বা প্রতিষ্ঠানের নির্দেশে এ কাজটি করা হলেও পুরস্কারটি প্রযোজ্য হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিজ্ঞানী ও শিশুদের হত্যাকারীকে বিশ্বব্যাপী মুক্ত মানুষেরা কখনো স্বস্তিতে থাকতে দেবে না। স্বৈরশাসকেরা কখনো শান্তি পাবে না। জনগণের ক্ষোভ থেকে কোনো অপরাধী নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাবে না।


যোদ্ধাদের জন্য প্রতিশোধ নেওয়াকে ‘বাধ্যতামূলক অঙ্গীকার’ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শহীদদের রক্ত অভিশাপ হয়ে থাকবে। এটি দাম্ভিকদের সিংহাসন কাঁপিয়ে দেবে, যতক্ষণ না আগ্রাসনকারীরা পরাজিত হয় এবং স্বৈরাচারের দুর্গগুলো ধসে পড়ে।


মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আরেক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের বৈঠকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল–জাইদির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেছেন, ২০২০ সালে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকের মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল–মুহান্দিস হত্যায় তার ভূমিকা ছিল।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি ভালোভাবে নেয়নি ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। মূলত এর পরই সংগঠনটির পক্ষ থেকে ট্রাম্পের মাথার এ দাম ঘোষণা করা হলো।


এদিকে ইসলামাবাদ চুক্তির পরও ইরানে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলায় ইরানের মিনাবের একটি স্কুলকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ইরানের পরমাণু প্রকল্পও লক্ষ্যবস্তু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানে টানা সাত রাত ধরে অভিযান পরিচালনা করছে তারা। মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক (প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাসে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বিমান অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, মার্কিন বাহিনী যদি হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে নামতে বাধ্য হবে ইরান।


শুক্রবার রাতের হামলার পর তাৎক্ষণিক এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এমন হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরান নিজেকে শুধু পাল্টা হামলার মধ্যেই সীমিত রাখবে না; পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে নামবে। সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই সুরক্ষিত থাকবে না।


সম্পাদক : আবদুল মাতিন