শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

রংপুরে ৪ খুনের ঘটনায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

রংপুরে ৪ খুনের ঘটনায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্যকে পৈশাচিক হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার এড়াতে শ্মশানে লুকিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি অভিযুক্ত মুগ্ধ দাসের। পুলিশি ধাওয়ার মুখে শ্মশানের কেয়ারটেকারের কাছে খুনের দায় স্বীকার করে আশ্রয়ের আকুতি জানিয়েছিল সে।


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।


পুলিশ কমিশনার জানান, হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন আলামত ও প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৩ আগস্ট ভোরে মুগ্ধ দাসের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মুগ্ধ দৌড়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে মাহিগঞ্জ-দখীগঞ্জ শ্মশানে আশ্রয় নেয়।


ক্লান্ত মুগ্ধ শ্মশানের কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাসের কাছে গিয়ে আকুতি জানিয়ে বলে, ‘দাদা— আমাকে একটু পানি দাও, আমাকে একটু আশ্রয় দাও; আমি তো গণপতি স্যারসহ চারজনকে খুন করেছি। পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করতে আসছে।’


তবে কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ তাকে আশ্রয় দিতে অস্বীকার করেন এবং তৎক্ষণাৎ পিছু ধাওয়া করা পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।


চার সদস্যকে হত্যার দায় স্বীকার করে মূল দুই অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। একই সাথে শ্মশানের কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ ও সীমান্ত দাস আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।


পুলিশ আরও নিশ্চিত করেছে, জবানবন্দিতে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তার দুজনের ডোপ টেস্ট ও ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।


পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতে তারা ইয়াবা সেবনের জন্য হাফ-ওয়াল পরিবেষ্টিত গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদ বেছে নেয়। ভোরে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে হাঁটতে গিয়ে তাদের দেখে ধমক দিলে জানাজানির ভয়ে তারা গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে। শব্দ শুনে ছাদে উঠে আসা স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামীকেও একইভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।


পরবর্তীতে নিচে নামলে ছোট ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী তাদের চিনে ফেলে প্রশ্ন করায় তাকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।


পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা ক্লান্ত হয়ে ঘরে থাকা খেজুর ও শসা খায়, গোসল করে এবং চুরি করা টাকা ও স্বর্ণ পরীক্ষা করে দেখে। ঘটনাকে ডাকাতির রূপ দিতে ঘরে ভাঙচুর চালানো হয় এবং সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার সন্দেহে প্লায়ার্স দিয়ে বাড়ির প্রধান বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তারা পালিয়ে যায়।


উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। নিহত পরিবারের সদস্য হিসেবে তার স্ত্রী প্রীতিলতা, স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা মেয়ে আগামী এবং জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র প্রিয়ম চক্রবর্তী একই সাথে নৃশংসতার শিকার হন।


সম্পাদক : আবদুল মাতিন