শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষক, সাহিত্য সমালোচক ও বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম জানান, অধ্যাপক ফজলুল হক মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় দুপুরে খেতে গিয়েছিলেন।
সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মিরপুরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে দুপুর আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
মোহাম্মদ আজম বলেন, বাংলা একাডেমি থেকে আমরা স্যারের বাসায় যাচ্ছি। দাফন ও শ্রদ্ধা নিবেদনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলে জানাব।
আবুল কাসেম ফজলুল হক নিরপেক্ষ রাজনীতি চিন্তা ও তত্ত্বের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘ চার দশক অধ্যাপনা করেছেন। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিতে সোচ্চার রাষ্ট্রভাষা বাংলা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তিনি।
আবুল কাসেম ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং আনন্দমোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে করে এখানেই শিক্ষকতা শুরু করেন ফজলুল হক। পরে বাংলা বিভাগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও রয়েছে তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’র মতো ২০টির বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে এই অধ্যাপকের।
তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘স্বদেশচিন্তা’র মতো একাধিক গ্রন্থ। ১৯৮১ সালে তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার।
তার দুই সন্তানের মধ্যে শুচিতা শরমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আর ফয়সল আরেফিন দীপন জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ছিলেন। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর ঢাকার শাহবাগে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ওই হত্যাকাণ্ডে জঙ্গিরা জড়িত বলে তখন জানায় পুলিশ।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার আবুল কাসেম ফজলুল হককে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব দেয়। ওই বছরের অক্টোবরে তাকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম























